ভারতীয় সংবিধানের ইতিহাস , History of Indian constitution.
- Get link
- X
- Other Apps
ভারতীয় সংবিধানের ইতিহাস
১৬০০ শতকে ব্রিটিশরা রানী এলিজাবেথের ফরমান নিয়ে ভারতে ব্যবসা করতে আসেন। ১৭৬৫ সালে কোম্পানি বাংলা বিহার উড়িষ্যার দেওয়ানি লাভ করে। তারপর ১৮৫৮ সালের সিপাহী বিদ্রোহের পর রানী এলিজাবেথ ভারতের শাসনভার কোম্পানির কাছ থেকে কেড়ে নিয়ে ব্রিটিশ সরকারকে দায়িত্ব দেয়।
এই দায়িত্বটা হঠাৎ করে ১৮৫৮ সালে ব্রিটিশ সরকারের হাতে চলে আসেনি। এটি ধীরে ধীরে বিভিন্ন অ্যাক্টের মাধ্যমে ব্রিটিশ সরকার কোম্পানি এবং ভারতের শাসন নিজের হাতে তুলে নেয়।
ব্রিটিশ সরকার ভারত এবং কোম্পানিকে শাসন ও পরিচালনা করার জন্য কিছু নিয়ম কানুন সময় সময় তৈরি করতো। পরবর্তীকালে এই সমস্ত নিয়ম কানুন গুলি আমাদের ভারতের সংবিধানে প্রভাব বিস্তার করে।
ভারতের সংবিধানের ইতিহাসের দিক থেকে এই নিয়ম কানুনগুলিকে দুটি ভাগে ভাগ করা হয়
প্রথমটি কোম্পানির রুল - ১৭৭৩ থেকে ১৮৫৮ সাল,
দ্বিতীয়টি দ্যা ক্রাউন রুল-১৮৫৮ থেকে ১৯৪৭,
দ্য কোম্পানি রুল ১৭৭৩ থেকে ১৮৫৮
রেগুলেটিং অ্যাক্ট ১৭৭৩
ভারতীয় সংবিধানের ইতিহাসের দিক থেকে এটি সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ আইন। এই আইনের মাধ্যমে ব্রিটিশ সরকার প্রথমবার কোম্পানিকে নিয়ন্ত্রণ করা শুরু করে।
১৭৭৩ সালে রেগুলেটিং অ্যাক্ট এর বৈশিষ্ট্য :-
- · এটি বাংলার গভর্নরকে গভর্নর জেনারেল হিসেবে পরিণত করে এবং তাকে সাহায্য করার জন্য চারজন সদস্যের একটি কার্যবাহী পরিষদ গঠন করা হয়।
- · এটি বোম্বাই এবং মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সির গভর্নর কে বাংলার গভর্নর জেনারেলের অধীনস্থ করে তোলে।
- · এই আইনের মাধ্যমেই কলকাতায় প্রথম একজন প্রধান বিচারপতি এবং তিনজন অন্যান্য বিচারপতিদের নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট প্রতিষ্ঠা করা হয়।
- · এই আইনের মাধ্যমে কোম্পানির কর্মচারীদের ঘুষ নেওয়া নিষিদ্ধ করা হয়।
- · এই আইন কোম্পানির উপর ব্রিটিশ সরকারের নিয়ন্ত্রণ আরো শক্তিশালী করে, ফলস্বরূপ কোম্পানির কোর্ট অফ ডাইরেক্টর ভারতে তার রাজস্ব,বেসামরিক এবং সামরিক বিষয়গুলির প্রতিবেদন ব্রিটিশ সরকারের কাছে জমা দিতে বাধ্য থাকতো।
১৭৮১ সালের সংশোধনী আইন (Act of settlement 1781)
এই আইনের মাধ্যমে গভর্নর জেনারেল কাউন্সিল তাদের কাজগুলি জন্য সুপ্রিম কোর্টের কাছে দায়বদ্ধ ছিল না তাছাড়া কোম্পানির কর্মচারীও সুপ্রিম কোর্টের কাছে তাদের কাজের জন্য দায়বদ্ধ ছিল না।
· রাজস্ব সংক্রান্ত বিষয় সুপ্রিম কোর্টের এখতিয়ার থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল।
· এই আইনের মাধ্যমে সুপ্রিমকোর্টকে হিন্দুদের জন্য হিন্দু আইন এবং মুসলিমদের জন্য মুসলিম আইনের দ্বারা বিচার করার ক্ষমতা দেওয়া হয়।।
১৭৮৪ সালে পিঠ ইন্ডিয়া এক্ট
এটি কোম্পানির রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক কাজগুলোর মধ্যে পার্থক্য তৈরি করে। কোর্ট অফ ডিরেক্টর এবং বোর্ড অফ কন্ট্রোল নামে দুটি সংস্থা তৈরি করা হয়।কোর্ট অফ ডিরেক্টর এর হাতে বাণিজ্যিক ক্ষমতা দেয়া হয় এবং বোর্ড অফ কন্ট্রোলের হাতে রাজনৈতিক বিষয়গুলি দেওয়া হয়, যা ভারতের দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা চালু করে।
এই আইনটি দুটি বিষয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ :- কোম্পানি দ্বারা দখল অঞ্চলগুলিকে প্রথমবারের মতো "British possession in India"(ব্রিটিশ দ্বারা দখল ভারত) বলা হয় এবং ব্রিটিশ সরকারকে কোম্পানির বিষয়ে এবং ভারতে প্রশাসনের উপর সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রণ দেওয়া হয়।
১৭৮৬ সালের আইন (Act of 1786)
১৭৮৬ সালে লর্ড কর্নওয়ালিস বাংলার গভর্নর জেনারেল হিসেবে নিযুক্ত হন । কিন্তু তিনি গভর্নর হওয়ার জন্য দুটি শর্ত রাখেন।
কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত অগ্রাহ্য করার ক্ষমতা তাকে দিতে হবে এবং তাকে সেনাপ্রধান করতে হবে,
১৭৯৩ সালের চেটার আইন(East India Company Act 1793)
এই আইনের বৈশিষ্ট্য :-
· এই আইনের মাধ্যমে লোড কর্নওয়ালিস কে কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত অগ্রাহ্য করার ক্ষমতা দেওয়া হয়।
· এই আইন গভর্নর জেনারেল কে বোম্বাই এবং মাদ্রাজ অধীনস্থ প্রেসিডেন্সির সরকার গুলির ওপর নিয়ন্ত্রণের অধিকার বাড়িয়ে দেওয়া হয়।
· এটি ভারতে কোম্পানির বাণিজ্যিক একচেটে অধিকার আরো ২০ বছর বাড়িয়ে দেয়।
· এই আইনের মাধ্যমে বোর্ড অফ কন্ট্রোলের সদস্য এবং তাদের কর্মচারীদের মাইনে ভারতীয় রাজস্ব থেকে প্রদান করা হবে।
১৮১৩ সালের চার্টার আইন ( The charter Act 1813)
এই আইনের বৈশিষ্ট্য
· এটি কোম্পানির একচেটিয়া বাণিজ্যিক অধিকার বাতিল করে দেয় অর্থাৎ ভারতীয় বাণিজ্য সমস্ত ব্রিটিশ বণিকদের জন্য উন্মুক্ত করা হয় । শুধুমাত্র চা পাতার বাণিজ্য এবং চীনের সাথে বাণিজ্যের ওপর কোম্পানির একচেটে অধিকার থাকে।
· এটি ভারতে কোম্পানির অঞ্চলগুলির ওপর ব্রিটিশ মহারানীর সার্বভৌম অধিকার নিশ্চিত করে।
· খ্রিস্টান ধর্ম প্রচারের জন্য খ্রিস্টান মিশনারি গুলিকে ভারতে আসার অনুমতি দেওয়া হয়।
· এই আইনের মাধ্যমে ভারতে পশ্চিমী শিক্ষার (Western education) ব্যবস্থার সূত্রপাত ঘটে।
· এই আইন স্থানীয় সরকারগুলিকে ব্যক্তিদের উপর কর প্রয়োগ করার ক্ষমতা দেয়। সময় মত কর না দিলে শাস্তির ব্যবস্থাও করা হয়।
১৮৩৩ সালের চার্টার আইন ( The charter Act 1833)
· এই আইনের মাধ্যমে বাংলার গভর্নর জেনারেল কে ভারতের গভর্নর জেনারেল করা হয় এবং তাকে সমস্ত বেসরকারি এবং সামরিক ক্ষমতা প্রদান করা হয়। লর্ড উইলিয়াম বেন্টিং ছিলেন ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল।
· এই আইন বোম্বাই এবং মাদ্রাজ গভর্নরদের আইন প্রণয়নের ক্ষমতা কেড়ে নেয়।
· এই আইনের মাধ্যমে বাণিজ্যিক সংস্থা হিসেবে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কার্যকলাপের সমাপ্তি হয় এবং এটি সম্পূর্ণরূপ একটি প্রশাসনিক সংস্থায় পরিণত হয়।
· এই আইনের মাধ্যমে বেসামরিক কর্মচারী নির্বাচনের জন্য সিভিল সার্ভিস প্রতিযোগিতা শুরু করা হয় এবং বলা হয় যে ভারতীয়রা কোন রকম ভাবে কোন স্থান,পদ এবং কর্মসংস্থান থেকে বঞ্চিত থাকবে না। তবে কোর্ট অফ ডিরেক্টারদের বিরোধিতার পরে এটি বাতিল করা হয়।
১৮৫৩ সালের চার্টার আইন ( The charter Act 1853)
এই আইনের বৈশিষ্ট্য :-
· এই আইনের মাধ্যমে গভর্নর জেনারেলের জন্য আইন প্রণয়নকারী কাউন্সিল প্রতিষ্ঠা করা হয়। যা বিধান পরিষদ নামে পরিচিত। এই শাখাটি একটি ক্ষুদ্র সংসদ হিসেবে কাজ করতো।
· এটি বেসামরিক কর্মচারী নির্বাচনের জন্য উন্মুক্ত প্রতিযোগী ব্যবস্থা চালু করে।
· এই আইনের মাধ্যমে চুক্তিবদ্ধ বেসামরিক পরিষেবা চালু করা হয় যা কোভেনান্টেড সিভিল সার্ভিস(Covenanted civil services) নামে পরিচিত।
· এই আইনের মাধ্যমে প্রথমবার কেন্দ্রীয় আইন পরিষদে স্থানীয় প্রতিনিধিত্ব ব্যবস্থা চালু করা হয়। গভর্নর জেনারেলের কাউন্সিলের ৬ জন নতুন আইন প্রণয়নকারী সদস্যদের মধ্যে চারজন সদস্য মাদ্রাজ,বোম্বাই,বাংলা এবং আগ্রার স্থানীয় সরকার কর্তিক নিযুক্ত করা হয়।
দা ক্রাউন রুল ১৮৫৮ থেকে ১৯৪৭
ভারত সরকার আইন ১৮৫৮ (The government of india Act 1858)
১৮৫৭ সালের বিদ্রোহের পর এই আইনটি প্রণয়ন করা হয়েছিল। এই আইনের মাধ্যমে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সমস্ত অধিকার ও ক্ষমতা কেড়ে নিয়ে ব্রিটিশ সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এই আইনের বৈশিষ্ট্য:-
· এই আইন বিধান করে যে এখন থেকে ভারতের শাসন ব্যবস্থা মহারানীর নামে এবং দ্বারা শাসিত হবে।
· এটি ভারতের গভর্নর জেনারেল কে ভারতের ভাইসরায় তে পরিণত করে। তিনি ব্রিটিশ মুকুটের সরাসরি প্রতিনিধি ছিলেন। লর্ড ক্যানিং হলেন ভারতের প্রথম ভাইসরয়।
· এই আইনের মাধ্যমে বোর্ড অফ কন্ট্রোল এবং কোর্ট অফ ডিরেক্টরস বিলুপ্ত করে দ্বৈত শাসনব্যবস্থার সমাপ্তি ঘটে।
· এই আইন ভারতের জন্য একটি নতুন পদ সেক্রেটারি অফ স্টেট ফর ইন্ডিয়া তৈরি করে। সেক্রেটারি অফ স্টেট ব্রিটিশ মন্ত্রিসভার সদস্য এবং চূড়ান্তভাবে ব্রিটিশ সংসদের কাছে দায়বদ্ধ ছিল।
এই আইনের মাধ্যমে মূলত প্রশাসনিক ব্যবস্থার উন্নতি ঘটানো হয়।
১৮৬১ সালের কাউন্সিল আইন (Indian Council act 1861)
১৮৫৭ সালে মহাবিদ্রোহের উপর ব্রিটিশ সরকার তাদের প্রশাসনিক কাজকর্মে জন্য ভারতের সহযোগিতার প্রয়োজনীতা অনুভব করে। সহযোগিতার নীতি অনুসারে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট ১৮৬১,১৮৯২ ও ১৯০৯ সালে তিনটি আইন প্রণয়ন করে।
এই আইনের প্রধান বৈশিষ্ট্য গুলি নিম্নে আলোচনা করা হলো:-
· এই আইনের মাধ্যমে আইন প্রণয় প্রক্রিয়ায় ভারতীয়দের যুক্ত করা হয়। এটি বিধান করে যে ভাইসরয় তার পরিষদে কিছু ভারতীয়কে বেসরকারি সদস্যদের মনোনীত করবে। ১৯৬২ সালে তৎকালীন ভাইসরয় লর্ড ক্যানিং তার আইন প্রণয়নকারী পরিষদে তিন জন ভারতীয়কে মনোনীত করেন-বেনারসের রাজা, পাতিয়ালার মহারাজা এবং স্যার দিনকর রাও।
· এটি বোম্বাই এবং মাদ্রাস প্রেসিডেন্সিগুলিকে পুনরায় আইন প্রণয়নের ক্ষমতা দেয়।
· এটি বাংলা উত্তর-পশ্চিম প্রদেশ এবং পাঞ্জাবের জন্য নতুন আইন প্রণয়নকারী পরিষদ গঠন করে।
· এই আইনের মাধ্যমে লর্ড ক্যানিং পোর্টপোলিও ব্যবস্থা চালু করেন যার মাধ্যমে ভাইসরয় পরিষদের একজন সদস্যকে এক বা একাধিক সরকারী বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
· এই আইন ভাইসরয়কে জরুরি অবস্থার সময় আইন প্রণয়নকারী পরিষদের সম্মতি ছাড়া অধ্যাদেশ জারি করার ক্ষমতা দেয়। এই ধরনের অধ্যাদেশের মেয়াদ ছিল ছয় মাস।
১৮৯২ সালে ভারতীয় কাউন্সিল আইন (The council Act 1892)
এই আইনের মাধ্যমে আইন প্রণয়নকারী পরিষদের সদস্যদের কার্যাবলী বৃদ্ধি করা হয় এবং তাদের বাজেটে আলোচনা করা প্রশ্ন করা ক্ষমতা দেওয়া হয়।
১৯০৯ সালের ভারতীয় কাউন্সিল আইন(Indian Council Act 1909)
এই আইনটি মারলে মিন্টো সংস্কার নামেও পরিচিত।
এই আইনের বৈশিষ্ট্য নিম্নে আলোচনা করা হলো:-
· এটি কেন্দ্রীয় এবং প্রাদেশিক আইন প্রণয়নকারী পরিষদের সদস্যদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করে। কেন্দ্রীয় আইন প্রণয়নকারী পরিষদের সদস্যদের সংখ্যা ১৬ থেকে ৬০ জন করা হয়।
· এটিই প্রথমবারের মতন ভাইসরয় এবং গভর্নরদের নির্বাহী পরিষদের (executive council) ভারতীয়দের যুক্ত করার বিধান করে।
· এই আইন প্রথমবার ধর্মের ভিত্তিতে নির্বাচন চালু করে।লর্ড মিন্টুকে সাম্প্রদায়িক নির্বাচনের জনক বলা হয়।
1919 সালের ভারত সরকার আইন বা মন্টেগু-চেলসফোর্ড সংস্কার(The government of india act 1919)
এই আইনের প্রধান বৈশিষ্ট্য :-
· এই আইন কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক বিষয়গুলিকে পৃথক করে এবং কেন্দ্রীয় প্রাদেশিক আইনসভা গুলিকে তাদের নিজ নিজ বিষয়ের তালিকায় আইন প্রণয়নের ক্ষমতা দেওয়া হয়।
· প্রাদেশিক বিষয়গুলোকে দুটি ভাগে ভাগ করা হয় স্থানান্তরিত এবং সংরক্ষিত। স্থানান্তরিত বিষয়গুলি আইন পরিষদের মন্ত্রীদের সহায়তায় গভর্নর দ্বারা পরিচালিত হতো। সংরক্ষিত বিষয়গুলি আইন পরিষদের কাছে দায়বদ্ধ ছিল না এটি গভর্নর এবং তার কার্যবাহী পরিষদ দ্বারা পরিচালিত হতো। শাসনের এই ব্যবস্থাটি দ্বৈত শাসন নামে পরিচিত ছিল।
· এই আইনের মাধ্যমে দেশে প্রথমবার দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা এবং প্রত্যক্ষ নির্বাচন চালু হয়।
· এই আইন শিখ,ভারতী খ্রিস্টান,অ্যাংলো ইন্ডিয়ান এবং ইউরোপীয়দের জন্য পৃথক নির্বাচন মন্ডলী তৈরি করে যা সাম্প্রদায়িক প্রতিনিধিত্বের নীতিকে আরো প্রসারিত করে।
· এই আইনের মাধ্যমে পাবলিক সার্ভিস কমিশন প্রতিষ্ঠা করা হয়। ১৯২৬ সালে বেসামরিক কর্মচারী নিয়োগের জন্য কেন্দ্রীয় পাবলিক সার্ভিস কমিশন স্থাপন করা হয়েছিল।
· এই আইনের মাধ্যমে প্রথমবারের মতন কেন্দ্রীয় বাজেট এবং প্রাদেশিক বাজেট গুলিকে পৃথক করা হয়,আইনসভা গুলিকে তাদের বাজেট তৈরি করার ক্ষমতা দেওয়া হয়।
· এই আইনের মাধ্যমে দশ বছর পর এর কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ ও অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন প্রস্তুত করার জন্য একটি বিধিবদ্ধ কমিশনের নিয়োগের ব্যবস্থা করা হয়।
ভারত শাসন আইন ১৯৩৫(The Government of india act 1935)
১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইন ভারতীয় উপমহাদেশে প্রথম পূর্ণাঙ্গ সংবিধানিক কাঠামো প্রদান করে এবং ভারতের সংবিধানের ভিত্তি স্থাপন করে। এই আইন ৩৩১ টি ধারা এবং দশটি তপশিলি নিয়ে গঠিত ছিল।
এই আইনের প্রধান বৈশিষ্ট্য :-
· এই আইনের মাধ্যমে সর্বভারতীয় ফেডারেশন প্রতিষ্ঠা করা হয়। কেন্দ্র এবং প্রদেশ গুলির মধ্যে তিনটি তালিকায় ক্ষমতা ভাগ করা হয়। কেন্দ্রীয় তালিকা, প্রাদেশিক তালিকা এবং যুগ্ম তালিকা। কিন্তু দেশীয় রাজ্যগুলোতে যোগ না দেওয়ায় ফেডারেশন কখনোই বাস্তবায়িত হয়নি।
· এই আইন মাধ্যমে তপশিলি জাতি,মহিলা এবং শ্রমিকদের জন্য পৃথক নির্বাচন মন্ডলী তৈরি করা হয়। যা সাম্প্রদায়িক প্রতিনিধিত্বের নীতিকে আরো প্রসারিত করে।
· দেশে প্রথম বার মুদ্রা এবং ঋণ নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করার জন্য রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া প্রতিষ্ঠা করা হয়।
সংবিধান রচনার প্রক্রিয়া
সংবিধান সভার গঠন
১৯৪৬ সালে ৯ ডিসেম্বর ভারতীয় সংবিধান সভার প্রথম অধিবেশন ডাকা হয়। এই সভার প্রধান দায়িত্ব ছিল ভারতের জন্য একটি সংবিধান রচনা করা। এই সভার সভাপতি ছিলেন ডঃ রাজেন্দ্র প্রসাদ এবং খসড়া কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন বি আর আম্বেদকর। সংবিধান প্রণয়ের জন্য বিভিন্ন উপকমিটি গঠন করা হয়। সংবিধানের খসড়া প্রস্তুত করা হলে এটি প্রায় ১১ বার সংশোধন করা হয়। বিভিন্ন ধরনের সংশোধনের পর ১৯৪৯ সালে ২৬শে নভেম্বর সংবিধান গৃহীত হয় এবং 199 সালে 26 শে জানুয়ারি সারা ভারতবর্ষেr জন্য এটি কার্যকর হয়। ভারতের সংবিধান রচনা করতে গণপরিষদের দু বছর, এগরোমাস এবং ১৭ দিন সময় লেগেছিল।
- Get link
- X
- Other Apps
Comments
Post a Comment